1. jashoreshop@gmail.com : Rose News : Rose News
  2. admin@rosenewsbd.com : rosenews :
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

শীতকালীন সময়ে খোসপাঁচড়া বা স্ক্যাবিসে সচেতনতা ও চিকিৎসা সেবা

  • Update Time : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ২৬৮ Time View

স্ব্যাবিস শরীরের জন্য একটি বিরক্তকর ও বিব্রকতর সমস্যা । বাংলা ভাষায়একে বলা হয় খুজলি বা খোসপাঁচড়া। এর সঙ্গে শীতের বা বাতাসের আর্দ্রতা সরাসরি কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রতি বছরের শীতকালে এই সমস্যা তীব্র আকার ধারন করে। বিশেষ করে শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। এ রোগ অনেকেই একত্রে একই বিছানায় গাদাগাদি করে ঘুমালে এ তীব্রতা বাড়ে।

স্ক্যাবিস আসলে একটি সংক্রামক রোগ। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া নয়, এটি এক ধরনের কীটের কারণে হয়ে থাকে। এ কীটের নাম স্ক্যাবিয়াই সারকপটিস স্ক্যারিবাই। এটি ত্বকের মধ্যে বাসা বাধেঁ, ডিম পাড়ে। স্ক্যাবিসের প্রধান উপসর্গ হলো চুলকানি। ভীষণ ও তীব্র চুলকানি হয়, রাতে চুলকানির তীব্রতা আরও বাড়ে। সারা শরীরেই স্ক্যাবিস হতে পারে। তবে বিশেষ করে হাত, হাতের আঙ্গুল, আঙ্গুলের ফাকেঁ, কনুই বগল, লজ্জাস্থান, স্তন, পশ্চাদ্দেশ ইত্যাদি জায়গায় বেশি হয়। শিশুর মাথা-মুখে হতে পারে। চুলকাতে চুলকাতে অনেকে ত্বক ছিড়েঁ ফেলেন, রক্ত বের করে ফেলেন। এতে ঘা বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামণ হতে পারে।

রোগটি খুবুই সাধারণ। কিন্তু সচেতনতার ঘাটতির কারণে চিকিৎসা পেতে দেরী হয়। এ কারণে সেরে উঠতে সময় লাগে। বেশির ভাগ মানুষ প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই দোকান থেকে খাওয়ার জন্য ঔষধ বা নানা ধরনের মলমজাতীয় ঔষধ কিনে ব্যবহার করেন। কেউ কেউ বাড়িতে নানা রকমের জীবাণুনাশক দিয়ে শরীর পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। ফলে পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে একসঙ্গে চিকিৎসা করাতে হয়। নয়তো ভালো ফল পাওয়া যায় না। চিকিৎসা নেওয়ার পর সব কাপচোপড়, চাদর তোয়ালে, বালিশ, গরম সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে কড়া রোদে শুকাতে হবে।

সাধারণ কিছু হাইজিন বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ ধরনের বিরক্তিকর রোগ এড়ানো সম্ভব। পরিবারের সদস্যদের তোয়ালে, জামাকাপড় আলাদা থাকা উচিত। এছাড়া একজনের বিছানার চাদর, বালিশ অন্যের ব্যবহার করা উচিত নয়। জামাকাপড় ও নিয়মিত ব্যবহার্য জিনিস নিয়মিত সাবান দিয়ে ধুয়ে কড়া রোদে শুকালে বা ভালো করে ইস্তিরি করলে নিরাপদ থাকা সম্ভব। খোসপাঁচড়া হলে অনেকে ভালো করে সাবান মাখেন, কেউ জীবাণুনাশক দিয়ে গোসল করেন। এত করে চুলকানী আরও বাড়ে। কাজেই আক্রান্ত জায়গায় সাবান, জীবাণুনাশক ইত্যাদি না লাগানোই ভালো। এছাড়া চুলকানি বাড়ে এজাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো।

স্ব্যাবিসের চিকিৎসায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পারমিথ্রিন ক্রিম বা বেনজাইল বেনজোয়েট লোশন সঠিক নিয়মে ব্যবহার করতে হবে। তবে পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে বা ঘা হয়ে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিক লাগাতে হবে। চুলকানি কমাতে অ্যান্টিহিস্টামিন খাওয়া যাবে। ঘনিষ্ট সাহচর্যে আসেন এমন সবারই একসঙ্গে চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসা নেওয়ার পর সবকাপড়, তোয়ালে, বালিশ, সাবান, পাউডার দিয়ে গরমপানিতে দিয়ে ধুতে হবে। কড়া রোদে বা শুকানো পরে ইস্তিরি করে নিতে হবে। সম্ভব হলে বিছানার তোশক, বালিশ ও গদি রোদে দিন। সবাই স্বাস্থ্য সম্মত এবং শীতকালীন সবজি বেশি বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 Rosenewsbd