1. jashoreshop@gmail.com : Rose News : Rose News
  2. admin@rosenewsbd.com : rosenews :
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১:১৬ অপরাহ্ন

এক নজরে ঝাঁপা বাওড়ের জানা অজানা সকল তথ্য

  • Update Time : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১
  • ১৩ Time View

বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। নদীমাতৃক আমাদের এদেশের রয়েছে প্রচুর নদী, নালা, খাল, বাওড়, বিল। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর উপজেলা যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজার সংলগ্ন একটি গ্রামের নাম ঝাঁপা।

এই গ্রামটির তিন পাশ দিয়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আঁধা কিলোমিটার প্রস্থ বিশিষ্ট একটি বাওড় রয়েছে। বাওড়টির গভীরতা ১৮ থেকে ২০ ফুট। গ্রামটির নামানুসারে এই বাওড়টির নাম করন করা হয় ঝাঁপা বাওড়। আর এ বাওড়টি সরকার ইজারা দিয়ে বছরে ৫০ লাখের ও বেশি টাকা ইনকাম করে থাকে।ঝাপা বাওড়ের চারপাশে রয়েছে নয়টি গ্র্রাম। গ্রামগুলোর মানুষ চলাচলের জন্য শুধুমাত্র নৌকার উপর ভরসা করতো।

গ্রামবাসীদের বিভিন্ন কাজে নদী পার হওয়া  লাগতো। নৌকাই একমাত্র ভপ্রসা হওয়াতে তাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। দেখা যেতো হসপিটালে ইমারজেন্সী রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় অনেক ঝামেলা হতো। এছাড়া ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার জন্য রাজগঞ্জ স্কুলে যেতে হতো৷ ছোট বাচ্চারা নৌকায় পার হতে বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হতো। 

গ্রামবাসীদের গ্রামের মাছ, সবজি, দুধ, ডিম বিক্রির জন্য বাজারে যেতে হতো। কিন্তু নৌকা পার হওয়াতে তারা বেশ সমস্যার সম্মুখীন হতো। তখন গ্রামবাসীরা মিলে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিলো তারা একটা ব্রিজ স্থাপন করবে। তাই তারা তখন সেখানকার স্থানীয় বিশ্বাস ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি লেদ মেশিন কারখানার মালিক রবিউল ইসলামকে সেতু তৈরির দায়িত্ব দেন।

রবিউল ইসলাম বলেন, তাঁদের প্রকৌশলগত তেমন কোনো শিক্ষা নেই। তবে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে আট’শ প্লাস্টিকের ড্রাম, আট’শ মণ লোহার অ্যাঙ্গেলও দুইশত পঞ্চাশ টি লোহার শিট দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটি বেশ মজবুত। এতে গ্রামের লোকজনদের চলাচলে বেশ সুবিধা হলো।

এই সেতুর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল, ভ্যান, সাইকেল, রিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারে। গ্রামবাসীদের সুবিধার্থে তৈরী হলেও এটি দেশের প্রথম দীর্ঘতম ভাসমান সেতু হওয়ায় মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে গেলো এ ঘটনা। আশেপাশে এলাকাএ মানুষ দলে দলে দেখতে আসতে লাগলো এ সেতু। এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দেখতে আসেন এ সেতু।

সেজন্য এই বাওড়ের তীর ঘেষে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন খাবার দোকান, হোটেল, খেলনা, কসমেটিকসের দোকান, নাগরদোলা ইত্যাদি৷ তাই দর্শনার্থীরা এখানে বেশ ভালো সময় কাটাতে পারে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ থেকে ছেলে মেয়েরা এখানে পিকনিক করতেও আসে। 

বিকালবেলা বাওড়ের পানি বেশ সুন্দর লাগে। তার সাথে মনোমুগ্ধকর বাতাস সব মিলায়ে অসাধারন উপভোগ করার মত একটা জায়গা। 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 Rosenewsbd